Recents in Beach

বখাটে 9⃣ম পর্ব Sᴜᴍᴏɴ Aʟ-Fᴀʀᴀʙɪ

বখাটে
9⃣ম পর্ব
Sᴜᴍᴏɴ Aʟ-Fᴀʀᴀʙɪ
.
আমিঃ তোর সাহস হয় কি করে তুই আমার পারমিশন ছাড়া আমার ডায়েরি পড়ছিস
( তানজুর হাত থেকে ডায়েরি টা কেড়ে নিলাম)
ডায়েরিটা হাতে নিয়ে চলে আসলাম রুমে । রুমে এসে ডায়েরিটার দিকে তাকিয়ে আছি ।
কিছু সময় ডায়েরিটার দিকে তাকিয়ে থেকে হঠাৎ করে তানজুর কথা মনে হলো
তানজুকে এভাবে থাপ্পড় দেওয়া উচিত হয় নি ।
ডায়েরিটা টেবিলের উপর রেখে আবার ছাঁদে আসলাম ।
তানজু এখনো ছাঁদে আছে।
তবে কান্না করছে ।।
আমিঃ সরি। তোমায় এভাবে থাপ্পড় দেওয়া উচিত হয় নি।
তানজুঃ না ঠিক আছে । তোমার জিনিস আমার উচিত ছিলো তোমার পারমিশন নেওয়া । আমায় ক্ষমা করে দিও।
তানজুকে আমার দিকে ঘুরিয়ে নিলাম
এরপর ওর চোখের পানি মুছে দিলাম ।
তানজুঃ আমি গেলাম ।
তানজু চলে যেতে নিলো। আমি ওর হাত ধরে আটকালাম ।
আমিঃ তুমি ডায়েরি টা কতটুকু পড়ছো?
তানজুঃ একটু আগেই হাতে নিছিলাম । রুম গোছানোর সময় ওটা পেয়েছিলাম । কিন্তু তখন দেখার মনে ছিলো না । একটু আগে খাওয়া করে হাতে নিলাম । তার একটু পরেই তুমি চলে আসলা।
আমিঃ হুম ।। তুমি জানতে চাইছিলে না আমি কেন এবং কিভাবে এই পথে চলে আসলাম?
তানজুঃ হুম ।
এরপর আমি তানজুকে বলতে শুরু করলাম ।

আজ থেকে কয়েক বছর আগে
আমি প্রথম থেকে বাসায় না থেকে সবসময় বাইরে থেকে পড়াশোনা করছি। সব সময় ভালো ভালো স্কুল কলেজে পড়ছি।
খুব ভালো ছাত্র না হলেও ভালো ছাত্রের লিষ্টে আমার নামটা ছিলো ।
তখন আমি সবেমাত্র প্রথম বর্ষ বাসা থেকে দূরে একটা কলেজে ভর্তি হলাম।
কলেজের পাশেই একটা বাসায় উঠলাম ।
নতুন কলেজ নতুন জায়গা সব অপরিচিত মুখ ।
পরিচয় কেউ নেই আশেপাশে ।
প্রথম প্রথম কলেজে কয়েক দিন গেলাম । এরপর থেকে আর কলেজ যাওয়া ও হয় না । কারণ কলেজ ৯ টা থেকে আর আমার ঘুম ভেঙে যায় ১১ টায়।
সারারাত ফেসবুকিং আর সারাদিন ঘুম । আর সময় পেলে একটু পড়াশোনা করি।
এভাবেই কেটে গেল বেশ কিছু দিন ।
হঠাৎ ফেসবুকে একদিন একটা মেয়ের আইডি থেকে রিকুয়েষ্ট আসলো।
আমি বরাবরই কারো কাছে রিকুয়েষ্ট দেই না । আর কার কার রিকুয়েষ্ট আসে সেটাও বেশি চেক করি না ।
কিন্তু এই আইডি টা একটু ঘুরে দেখলাম । প্রোফাইল টা দেখে অনেক ভালো লাগলো। তাই একসেপ্ট করলাম ।
সেদিন আইপিএল খেলায় মুম্বাই আর দিল্লির খেলা হচ্ছে । মুম্বাই আমার পছন্দের টিম তাই এর খেলা মিস দেই না।
টিভির সামনে বসে আছি ।
দূর মুম্বাই খেলতে পারে না । এত টিপটিপ করে খেললে হবে । ছয় দেখি না কোন বছর থেকে ।
ফোনটা হাতে নিয়ে ওয়াইফাই অন করে ফেসবুকে ঢুকলাম ।
একটু পরেই একটা মেসেজ আসলো। Snigdha Mou আইডি থেকে
মৌঃ Hii
আমিঃ Hlw...
মৌঃ কেমন আছেন?
আমিঃ আলহামদুলিল্লাহ । আপনি?
মৌঃ আলহামদুলিল্লাহ । কি করেছেন?
আমিঃ এই তো বসে বসে খেলা দেখি। আপনি?
মৌঃ কিছু না। খাওয়া করছেন?
আমিঃ না। আপনি?
মৌঃ রাতের খাবার কখন খবেন?
আমিঃ ঠিক নেই । খেতেও পারি নাও খেতে পারি।
মৌঃ কেন?
আমিঃ এমনি।
মৌঃ আপনি না খেলে gf ও তো খাবে না আপনার
আমিঃ ডিরেক্ট বললেই তো পারেন যে জানতে চাচ্ছেন gf আছে কি না। এভাবে অপমান না করলেও পারতেন ।
মৌঃ আমি কখন অপমান করলাম আপনাকে?
আমিঃ এই যে বললেন আমি না খেলে gf ও খাবে না।
মৌঃ ঠিকই তো বলছি।
আমিঃ থাক। আর কিছু না বলি।
মৌঃ হুম । বাসা কই আপনার ?
আমিঃ রংপুর । আপনার?
মৌঃ গাজীপুর ।
এভাবে কিছু সময় চ্যাটিং করার পর যখন মুম্বাই ব্যাটিং এ আসলো তখন বায় বলে খেলায় মনোযোগ দিলাম ।
আমার একটা রুটিন হয়ে গেছলো সবার যখন ঘুম ভাঙ্গে তখন আমি ঘুমিয়ে পড়ি।
খালা এসে রান্না করে দিয়ে যায় ।
সকাল বেলা ফোনটা কাঁপতে শুরু করলো ।
ঘুম ঘুম চোখে ফোনটা চিরুনি তল্লাশি করে বের করলাম ।
আমিঃ হ্যালো
সাকিবঃ কই তুই?
আমিঃ জাহান্নামে চৌরাস্তায় । আসবি?
সাকিবঃ না। আমার ওতো ভলো জায়গায় যাওয়ার ইচ্ছে নাই ।
আমিঃ সকাল সকাল বকবক করিস না। কি বলবি বল তাড়াতাড়ি।
সাকিবঃ তাড়াতাড়ি কারমাইকেল ক্যাম্পাসে আয়।
আমিঃ কেন?
সাকিবঃ মারুফ হাবিব আসছে ।
আমিঃ আচ্ছা তোরা কিছু সময় থাক আমি আসছি।
সাকিবঃ তাড়াতাড়ি ।
ফোনটা কান থেকে নামিয়ে আবার ঘুমিয়ে পরলাম ।
একটু পরে আবার ফোন আসলো
সাকিবঃ কই রে তুই
আমিঃ এই তো দোস্ত রাস্তায়।
সাকিবঃ কুত্তা এখনো ঘুমাচ্ছিস। তুই থাক আমরা চলে গেলাম ।
আমিঃ আচ্ছা । আল্লাহ হাফিজ।
সাকিবঃ কুত্তা আবার আচ্ছা বলিস। ১০ মিনিটেই চলে আয়।
আমিঃ আচ্ছা ।
ফোনটা রেখে উঠে বাথরুমে আসলাম ।
ফ্রেশ হয়ে রেডি হয়ে কারমাইকেল ক্যাম্পাসে আসলাম ।
আমিঃ কই আছিস তোরা?
সাকিবঃ বাংলা মঞ্চের সামনে আয়।
আমিঃ আচ্ছা ।
আমরা সবাই দূরে দূরে থাকলে কি হবে কিন্তু সবাই রংপুর শহরেই থাকি শুধু রাকিব একাই কুড়িগ্রাম পলিটেকনিকে।
.
..
...
....
...
..
.
Tᴏ ʙᴇ ᴄᴏɴᴛɪɴᴜᴇ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ