Recents in Beach

বখাটে 🔟ম পর্ব Sᴜᴍᴏɴ Aʟ-Fᴀʀᴀʙɪ

বখাটে
🔟ম পর্ব
Sᴜᴍᴏɴ Aʟ-Fᴀʀᴀʙɪ
বাংলা মঞ্চের কাছে আসলাম । আমাদের উত্তর বঙ্গে কারমাইকেল কলেজ হচ্ছে সব থেকে বড় ক্যাম্পাস জুড়ে । তবে এটাকে ক্যাম্পাস না বলে প্রেমিক প্রেমিকার মিলন স্হান বললেও ভুল হবে না । সবাই এখানে এসে তার সঙ্গীর সাথে মিলিত হয়।
দূর থেকে দেখলাম ওরা সবাই বসে আড্ডা দিচ্ছে ।
আমিঃ কি রে সবার কি অবস্হা?
সাকিবঃ এই তোর আসার সময় ?
আমিঃ বেশি তো দেরি করি নি। একটু মাত্র
হাবিবঃ এ বাদ দে না। আমার সমস্যাটার কি হবে সেটা বল
আমিঃ মামা তোরে কি কিছু করার হুমকি দিছে নাকি?
মারুফঃ হ। আমারও সেটাই মনে হয় ।
হাবিবঃ আরে বাল থামবি তোরা।
সাকিবঃ আরে কলেজে তো ক্লাস শুরু হয়ে গেছে । কিন্তু ও এখনো বাসা পায় নি । তাই একটু চিন্তায়।
আমিঃ মাদারবোর্ড শালা। এইটা কোনো সমস্যা হলো।
হাবিবঃ আমার থাকার জায়গায় নেই আর এটা কোনো সমস্যা না।
আমিঃ কিভাবে সমস্যা বল? তুই পুলিশ লাইনস এ। আর আমার বাসা ওখানে থেকে ২০ মিনিটের পথ যদি হেঁটে যাস।
হাবিবঃ তো আমি কি করবো?
আমিঃ সাকিব মালটারে বোঝা
সাকিবঃ ওরে বোকাচন্দ্র ও বলছে তুই ওর বাসায় উঠতে পারবি।
হাবিবঃ তো সোজাসুজি বললেই তো হয়।
আমিঃ ভাই তোর বাসর রাতে তোর বউ বাধ্য হয়ে আমাদেরকেই ফোন করে ডাকবে এটাতে কোনো সন্দেহ নেই ।
হাবিবঃ শালা তোদের তো কোনো দিন বিয়ে হবে না ।
আমিঃ বিয়েটা হবে কি করে বল? তোর বউ যদি যখন তখন ডাকে তাহলে তোর বউকে সময় দিবো নাকি আমাদের বউকে সময় দিবো? তাই তুই যেহেতু কলিজার টুকরা তাই তোর বউটার দায়িত্ব টাই মনোযোগ দিয়ে পালন করতে হবে । কি বলিস তোরা? তোরাও কি আমার সাথে একমত? ( মারুফ আর সাকিবের উদ্দেশ্যে বললাম)
সাকিবঃ এটা আবার বলতে হয় । তুই কোনো চিন্তা করবি না হাবিব। আমরা আছি ।
হাবিব শুধু রাগে ফুঁসছে । আমাদের মাঝে ও একটু বেশি ভালো । আমরা সবাই ভালো কিন্তু ও একটু বেশি ভালো । তাই ওকে জ্বালানোর সুযোগ পেলে সেটা কেউ নষ্ট করি না। সুযোগে সৎ ব্যাবহার করি এই আর কি।
এরপর সবাই মিলে আড্ডা দিলাম ।
পাশের বিরিয়ানি হাউজে গিয়ে বিরিয়ানি খেয়ে বের হলাম ।
আমিঃ তুই তাহলে কাল তোর বই কাপড় সব নিয়ে চলে আয়।
হাবিবঃ ঠিক আছে ।
মারুফঃ বাচ্চাটার উপর অত্যাচার করিস নে সুমন কেমন?
আমিঃ আমি কি এই বেবিটার উপর অত্যাচার করতে পারি ।
এরপর সবাই একসাথে হেঁসে উঠলাম শুধু হাবিব ছাড়া ।
অন্যদের সাথে মিশে আমি যদিও হাবিব কে পচাই কিন্তু আমার জীবনের প্রতিটা মুহূর্ত ওর সাথে শেয়ার না করলে আমার কিছুই ভালো লাগে না । কিছু একটা ঘটলে সবার আগে হাবিব কে জানাতেই হবে ।
আজ পর্যন্ত কত মেয়ের প্রপোজাল পাইছি কোন মেয়ে আমার দিকে তাকাইছে কোন মেয়েটাকে আমার একটু ভালো লাগছে সব কিছু হাবিবের মুখস্থ ।
সবাই কে বিদায় দিয়ে বাসায় ফিরলাম ।
খালা দুপুরের খাবার দিয়ে গেছে ।
কিন্তু আমার চোখ শুধু ঘুম ঘুম করছে ।
দরজাটা একটু এগিয়ে দিয়ে দিলাম ঘুম ।
এক ঘুমে সন্ধ্যা ।
ফ্রেশ হয়ে একটা বিস্কুট খেলাম।
এরপর বসলাম ফোন হাতে টিভির সামনে ।
আজ কলকাতার খেলা আছে ।
কলকাতার খেলাটা দেখা হয় শাহ্ রুহ্ খান এর টিম আর রাসেলের ব্যাটিং দেখার জন্য । যদিও বা সাকিব আছে ।
খেলা দেখছি আর মাঝে মাঝে ফোনের স্কিনে তাকাচ্ছি একটু একটু করে ফেসবুকিং করছি।
খেলাটা জমে গেছে ।
বেশ কিছু সময় পর ফোনের পাওয়ার বাটন টা চাপলাম ।
ঐ মেয়ের আইডি থেকে Hi.. ম্যাসেজ আসছে কিন্তু সেটা ১৫ মিনিট আগে ।
মনে হয় এতক্ষণে বের হয়ে গেছে । তাই সিন না করে আবার খেলায় মনোনিবেশ করলাম ।
এরপর যখন টাইম আউট দিলো তখন সিন করলাম ।
এখনো লাইনে আছে ।
আমিঃ Hlw..
মৌঃ খুব ব্যাস্ত মনে হচ্ছে
আমিঃ কই না তো।
মৌঃ তাহলে মেসেজ করছি সেই কখন আর আপনি এখনি সিন করলেন ।
আমিঃ ওহহ আচ্ছা । আমি একটু খেলা দেখায় মগ্ন ছিলাম ।
মৌঃ ওহহ। তো এখন কি করেন?
আমিঃ এই তো ★ গুনি । আপনি?
মৌঃ আপনি তারাও গুনতে জানেন?
আমিঃ হ্যাঁ । কেন আপনি জানেন না ?
মৌঃ না। আমায় শিখাবেন?
আমিঃ উমমম। আচ্ছা ঠিক আছে কোনো এক দিন শিখাবো।
মৌঃ দিনের বেলা তো তারা উঠে না
আমিঃ ওঠে কিন্তু সেটা আপনি দেখতে পারেন না। মাঝে মাঝে দিনের বেলায় ও তারা ওঠে ।
মৌঃওহহ তাই বুঝি। তো আপনি আর কি কি জানেন?
আমিঃ জানি তো অনেক কিছু কিন্তু বলা যাবে না ।।
মৌঃ ওহহ। আজ সারাদিন ফেসবুকে আসেন নি কেন?
আমিঃ বন্ধুদের সাথে দেখা করতে গেছলাম ।
মৌঃ ছেলে বন্ধু নাকি মেয়ে?
আমিঃ কোন এমন অভাগা মেয়ে আছে যে আমাদের সাথে দেখা করতে আসবে । ছেলে বন্ধু ।
মৌঃ ওহহ আচ্ছা ।
ম্যাসেজ টা সিন করে অফলাইনে চলে আসলাম ।
এটা আমার বাজে স্বভাব গুলোর মধ্যে একটা চ্যাটিং চলা কালিন হঠাৎ করে না জানিয়ে অফলাইনে চলে যাই।
এরপর একবার রাত বারোটার পরে অনলাইনে আসি ভোর পর্যন্ত।
পরের দিন দুপুরে হাবিব ফোন করে বললো ও নাকি চলে এসেছে ।
বাইরে বের হয়ে ওকে নিয়ে আসলাম ।
ভিতরে এসে ওকে ওর জায়গাটা দেখিয়ে দিলাম । সব কিছু বুঝিয়ে দিলাম ।
বাসা ওয়ালা আংকেলের ক্লাস ৮ পড়া মেয়ে আছে ভুলেও সেদিকে তাকানো যাবে না ওনারা উপর তলায় থাকে।
এভাবে সব কিছু বুঝিয়ে দিলাম ।
আজ প্রথম বার আশপাশের এলাকাটা ঘুরতে বের হলাম বিকেলে । এতদিন একা ছিলাম তাই কোথাও বের হওয়া হয় নি।
এভাবেই কাটতে লাগলো দিন।
মেয়েটার সাথে রোজ কথা হয়। এভাবে প্রতিদিন কথা বলতে বলতে মেয়েটার সাথে সুন্দর একটা বন্ধুত্ব সৃষ্টি হয়ে গেলো।
তবে মৌয়ের হাসিটা আমায় অনেক ভালো লাগে । ভাবছেন চ্যাটিং এ আবার হাসি শুনলাম কেমনে?
এর মাঝে একদিন ফেসবুকে ফানি ভিডিও দেখছি হঠাৎ ঐ আইডি থেকে ফোন আসলো।
আমি তো ভূত দেখার মতো চমকে উঠলাম । এ মেয়ে হঠাৎ করে ফোন দিলো।
সেদিন কথা বলছি প্রায় ৫ মিনিট ।
সেটাও প্রায় আজ ১৫ দিন আগে । এদিকে হাবিব ও ফেসবুকে একটা মেয়ের সাথে সেই লেভেলের চ্যাটিং জমিয়ে দিছে।
আমি যদিও বুঝতে পারছি যে শালাও ঐ মেয়ের প্রেমে হাবুডুবু না পানি খেয়ে পেট ফুলে গেছে কিন্তু আমার সামনে সেটা ভুলেও স্বীকার করবে না । কারন আমি মজা করবো তাই ।
.
..
...
....
...
..
.
Tᴏ ʙᴇ ᴄᴏɴᴛɪɴᴜᴇ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ