Recents in Beach

বখাটে 6⃣ষ্ঠ পর্ব Sûmøñ Ãl-Fãrâbî

বখাটে
6⃣ষ্ঠ পর্ব
Sûmøñ Ãl-Fãrâbî
.
এই কয় দিয়ে আব্বুকে একবার ও হাসপাতালে আসতে দেখলাম না ।
আমিঃ তানজু আব্বু হাসপাতালে আসে নি?
( তানজু কিছুক্ষণ আমার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকলো। )
তানজুঃ এসেছিলো তো। কিন্তু তুমি তখন ঘুমিয়ে পড়েছিলে।
( তানজুর মুখের দিকে তাকিয়ে স্পষ্ট বুঝতে পারছি ও মিথ্যা বলছে । তবুও নিজেকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য ওর কথাই বিশ্বাস করে নিলাম)
আরও দুই দিন কেটে গেল ।
এখন আমি মোটামুটি সুস্থ ।
হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকতে থাকতে জীবনের প্রতি কেমন জানি একটা অরুচি ধরে গেছে ।
দুপুরে ডাক্তার দেখতে আসলো।
ডাক্তারঃ আজ কেমন ফিল করছেন ?
আমিঃ শারিরীক ভাবে তো ভালোই। কিন্তু মানসিক ভাবে খুবই খারাপ ।
ডাক্তারঃ কেন?
আমিঃ এখানে থেকে আমায় রিলিজ দেওয়া হবে কবে?
ডাক্তারঃ এতো তাড়া কেন? এখান থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরবেন
আমিঃ তাহলে সব গেলো।
ডাক্তারঃ কেন?
আমিঃ আমি যদি এখানে আর দুই দিন থাকি তাহলে আমায় এখানে থেকে সোজা মানসিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া লাগবে ।
আমার কথা শুনে ডাক্তার মুচকি হাসলো।
এরপর তানজুর কাছে গেলো।
ডাক্তারঃ উনি তো এখন সুস্থ । আপনারা চাইলে ওনাকে বাসায় নিয়ে যেতে পারেন। তবে খেয়াল রাখবেন যাতে কোনো প্রকার হাঁটাচলা না করে ।
তানজুঃ আর কি কোনো এক্স রে করতে হবে?
ডাক্তারঃ এখন না। তবে ১৫ দিন পর একবার করতে হবে । হাড়টা জয়েন হয়েছে কি না সেটা দেখার জন্য ।
তানজুঃ ওহহ আচ্ছা । এরমধ্যে যদি কোনো সমস্যা হয়?
ডাক্তারঃ কোনো সমস্যা না হওয়ারই তো কথা । আর যদি হয় তাহলে ফোন দিয়েন। নয়তো ওনাকে নিয়ে আসিয়েন।
তানজুঃ ধন্যবাদ ডাক্তার ।
ডাক্তার চলে গেল । তানজু আম্মু কে ফোন করে বললো।
এরপর সন্ধ্যায় বাসায় আসলাম ।
মনে হচ্ছে কতদিন পর যেন আজ একটু মন ভরে নিঃশ্বাস নিতে পারছি।
রাতে আমি একা একা শুয়ে ফোনে গান শুনছি
আম্মু রুমে আসলো
হাতে খাবারের প্লেট নিয়ে ।
পিছনে পিছনে তানজুও আসলো। মনে হচ্ছে তানজু দৌড়ে আসলো।
তানজুঃ আম্মু তুমি কি ওকে খাইয়ে দিতে আসছো?
আম্মুঃ হুম । কেন?
তানজুঃ আমি থাকতে তুমি কেন কষ্ট করবে। তুমি যাও আমি খাইয়ে দিচ্ছি।
আম্মুঃ আচ্ছা । তাহলে আমি গেলাম ।
আম্মু তানজুর হাতে প্লেট টা দিয়ে চলে গেল
তানজু আমার সামনে এসে বসলো।
তানজুঃ দেখছো বিয়ের আগে বউয়ের হাতে ভাত তুলে খাচ্ছো। তোমার ভাগ্য কতো ভালো?
আমিঃ কি বললা?
তানজুঃ ঐ তুমি যা শুনছো তাই বলছি। এখন নাও হা করো
আমিঃ আমি খাবো না ।
তানজুঃ কেন?
আমিঃ কারণ আমার এতো ভালো ভাগ্যের দরকার নেই ।
তানজুঃ আরে আমি তো মজা করছি।
আমিঃ কিন্তু আমি মজা করছি না । আমি খাবো না ।
তানজুঃ আচ্ছা বাবা আর কোনো দিন এমন মজা করবো না এই কানে ধরলাম ।
আমিঃ হুম ।
তানজুঃ এইবার নাও হা করো।
এরপর তানজু খাইয়ে দিচ্ছে আর আমি খাচ্ছি ।
হঠাৎ তানজু বললো
তানজুঃ আচ্ছা ঐ কোনায় ওটা কি?
আমিঃ ওটা গিটার ।
তানজুঃ কি? ওটা গিটার? এতো অযত্নে পড়ে আছে ।
আমিঃ হুম । ওটা যত্ন করার জন্য যে মানসিকতা প্রয়োজন সেটা আর নেই । তাই ।
তানজুঃ ওহহ। আচ্ছা শুনেছি তুমি অনেক ভালো ছত্র ছিলে তাহলে এমন হয়ে গেলা কেন?
আমিঃ তুমি যদি এখানে থাকতে চাও তাহলে এসব কথা বলা বাদ দাও ।
তানজুঃ আচ্ছা বাদ দিলাম । একটা প্রশ্ন করি?
আমিঃ হুম ।
তানজুঃ তুমি কি আগে গান গাইতা?
আমি কিছু সময় চুপ করে থাকলাম ।
তানজুঃ কি হলো বলো
আমিঃ একটু একটু ।
তানজুঃ ওহহ আচ্ছা ।
খাওয়া শেষ হলো। তানজু আমায় পানি খেতে দিয়ে ও চলে গেল ।
আমি পানি খেলাম । এরপর পাশে রাখা আছে ঔষধ। সেখানে থেকে ঔষধ বের করে নিয়ে পাশেই জানালা ছিলো সেটা দিয়ে ফেলে দিলাম । সেখানে থেকে শুধু ঘুমের ঔষধ টা খেলাম
এর কিছু সময় পরেই চোখ টা বুজে আসলো।
মাঝরাতে হঠাৎ করেই বুকের উপর হালকা ব্যাথা অনুভব হলো।
ঘুম ভেঙে গেলো । চোখ খুলে দেখি আমার বুকের উপর মাথা রেখে কেউ শুয়ে আছে ।
মুখের উপর চুলগুলো এলোমেলো হয়ে গেছে
চুলগুলো সরিয়ে দিতে দেখি তানজু।
আমি ওকে ডাকবো সেই সময় ও আরও ভালো করে আমায় জড়িয়ে ধরলো ।
মেয়েটা এই কয়দিনে আমার জন্য অনেক কিছু করছে ।
সারাদিন রাত আমার সেবা করছে।
এখন আমি যদি ওর এই শান্তির ঘুমটা ভেঙে দেই তাহলে নিজেকে স্বার্থপর মনে হবে ।
তাই আর ডাকলাম না ।
ও যেভাবে শুয়ে আছে তাতে মনে হচ্ছে না যে ওর শান্তি হচ্ছে ।
তাই আমি কোনো ভাবে একটু সরে এসে ওকে ভালো করে শুইয়ে দিলাম । আর নিজেকে ওর থেকে ছাড়িয়ে নিলাম ।
আমি শুয়ে আছি তানজু আমার পাশে শুয়ে আছে ।
কেমন জানি অস্বস্তি লাগছে ।
একটা মেয়ে আমার পাশে শুয়ে আছে ।
রাতে ঘুমের ঔষধ টা খেয়েছি ওটার রেশ এখনো কাটে নি। তাই বেশি সময় চোখ খুলে থাকতে পারলাম না।
পাশে থাকা মেয়ে, অস্বস্তি সব ভুলে ঘুমিয়ে পরলাম ।
.
..
...
....
...
..
.
To be continue

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ