বখাটে
3⃣য় পর্ব
Sûmøñ Ãl-Fãrâbî
⬇
রুমে এসে শুতেই বুঝতে পারলাম আমার মাথা খুব নরম একটা কিছুর উপর পড়েছে। লাইট জ্বালাতেই আমি অবাক হয়ে গেলাম । তানজু আমার বেডে শুয়ে আছে । তাহলে আমার মাথা ওর শরীরে পড়ছিল?
মেয়েদের শরীর এতটা নরম হয় জানতাম না ।
হঠাৎ করে ভাবনার জগৎ থেকে বের হয়ে আসলাম ।
এরপর ওর হাত ধরে টেনে তুললাম।
আমিঃ এই মেয়ে আপনার সমস্যা কি?
তানজুঃ আমার কোনো সমস্যা নেই । আর তোমার কি কমন সেন্স নাই । ঘুমের মানুষকে কেউ এভাবে তোলে।
আমিঃ বেশি জ্ঞান না দিয়ে তাড়াতাড়ি রুম থেকে বের হয়ে যাও।
তানজুঃ আমি যাবো না।
আবার শুয়ে পড়লো।
একটা মেয়েকে এর থেকে বেশি জোর করা আমার পক্ষে সম্ভব নয় ।
তাই আবার ছাঁদে আসলাম । এসে ওখানেই বসে ঘুমিয়ে পরলাম ।
ভোরের প্রথম আলোটা চোখে এসে পড়তেই ঘুম ভেঙে গেলো ।
চোখ খুলে তাকালাম ।
আমার গায়ের উপর একটা কাঁথা দেখতে পেলাম ।
এটা আবার কে দিয়ে গেলো?
অনেক দিন পর আজ ভোরে জাগনা পেলাম । যদিও বা আমি রোজ ভোরেই ঘুমাই। কিন্তু কাল একটু তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ছিলাম ।
উঠে আশপাশ টা একটু নজর ঘুরিয়ে নিলাম ।
ভোরের পৃথিবী সত্যি অনেক সুন্দর ।
বাসায় আসলাম ।
আম্মু আর রাফছি আমায় দেখে রীতিমতো ভূত দেখা অবস্থা ।
রাফছিঃ ভাইয়া তুই ঠিক আছিস?
আমিঃ কেন? আমার আবার কি হবে ?
আম্মুঃ তুই এতো ভোরে উঠছিস?
আমিঃ হুম
রাফছিঃ আপু কই?
আমিঃ কোন আপু?
রাফছিঃ তানজু আপু।
আমিঃ রুমে ঘুমাচ্ছে মনে হয়।
আম্মু ওনার রুমে গেলো। রাফছি আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি মুচকি হাসছে।
রাফছিঃ বিয়ের আগেই একসাথে ছিলি?
আমি কিছু বলতে যাবো এমন সময় পিছনে থেকে তানজু বললো
তানজুঃ হ্যাঁ ছিলাম ননদিনী। কেন কোনো সমস্যা?
রাফছিঃ মিঞা বিবি রাজি তো কেয়া করেগা কাজি। আমার কোনো সমস্যা নেই ।
আমিঃ চুপ থাক । আর আপনি কি সব আবোল তাবোল বলছেন। আর আমি কোনো মেয়ের সাথে ছিলাম না। আমি ছাঁদে ঘুমিয়েছিলাম।
রাফছিঃ সেটা তোকে দেখলেই বোঝা যায়। কঞ্জুস কোথাকার । মনের মাঝে রস কষ কিছু নেই তোর ।
আমিঃ হ্যাঁ । ওতো রস দিয়ে আমার কাজ নেই ।
একটা আপেল হাতে নিয়ে বের হতে লাগলাম ।
পিছনে থেকে রাফছি বললো
রাফছিঃ ভাইয়া আজ কিন্তু রাতে বাসায় তাড়াতাড়ি আসবি।
আমিঃ আচ্ছা ।
আমি বাইরে চলে আসলাম ।
আমি জানি আজ ও কেন আমায় তাড়াতাড়ি বাসায় ডাকছে
কারণ আজ আমার কলিজার টুকরা বোনটার জন্ম দিন ।
বাসায় পার্টি আছে ।
যদিও বা আমায় জানায় নি
কিন্তু আমি তো জানি অনেক আদরের মেয়ে পার্টি তো করবেই ।
আর আমি আসবো না। কারণ আমার আব্বু চায় না আমায় ওনার হাই প্রোফাইল বন্ধু দের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে।
আর আমি ও চাই না ওদের সাথে পরিচিত হতে ।
মামার দোকানে আসলাম ।
আমিঃ রকি চল
রকিঃ কোথায় ভাই ?
আমিঃ আজ কি তোর মনে নেই?
রকি কিছু সময় ভাবলো এরপর বললো ওহ হ্যাঁ
আজ তো আপুর জন্ম দিন ।
প্রতি বছর এই দিনটা আমি একটু ভলো কাজ করি এবং আল্লাহর কাছে কিছু চাই। সারা বছর পাপে ডুবে থাকি কিন্তু এই দিনটা আমি মসজিদে মসজিদে মিষ্টি খাওয়াই এবং আমার বোনটার জন্য দোয়া চাই ।
আর বছরের শুধু এই দিনটাই আমি বাসায় থাকি না । ।
পরের দিন রাত বারোটায় বাসায় এসে দরজায় লাথি দিলাম
আমি জানি আজ আমার বোনটা একটু দেরি করে দরজা খুলে দিবে
কারণ এটা ওর অভিমানের রেশ। কাটতে একটু সময় লাগবে ।
কিন্তু না। তখনই দরজা খুলে দিলো।
কিন্তু রাফছি না, তানজু।
কিছু না বলে সোজা ছাদে চলে আসলাম ।
আমার পিছনে পিছনে তানজুও ছাঁদে চলে আসলো।
আমিঃ ধন্যবাদ ।
( আপনারা ভাবছেন ধন্যবাদ দিলাম কেন?
গতকাল রাতে তানজুর নাম্বার টা ম্যানেজ করে ফোন দিয়ে ওকে দিয়ে রাফছির রুমে গিফট বক্স পাঠিয়ে দিছি । আমার উপর মন খারাপ করলেও যাতে গিফট পেয়ে খুশি হয়। )
।
⬇⬇⬇⬇⬇
⬇⬇⬇⬇
⬇⬇⬇
⬇⬇
⬇
To be continue
0 মন্তব্যসমূহ