Recents in Beach

রোদ-বৃষ্টির লুকোচুরি 𝓢𝓾𝓶𝓸𝓷 𝓐𝓵-𝓕𝓪𝓻𝓪𝓫𝖎 1𝖘 Md.Razib

রোদ-বৃষ্টির লুকোচুরি
𝓢𝓾𝓶𝓸𝓷 𝓐𝓵-𝓕𝓪𝓻𝓪𝓫𝖎
1𝖘 Md.Razib

☞ জানালার পাশে দাঁড়িয়ে বুকের ওরনাটা ঠিক করে জানালার পর্দাটা সরালো তিথি । বাইরের মিষ্টি ঠান্ডা হাওয়া ঘরের ভিতরে আসতে শুরু করলো ।
তিথি চোখ বুজে অনুভব করতে লাগলো। হঠাৎ দরজায় ঠক ঠক শব্দ ।
কে? তিথি জানালার পাশে দাঁড়িয়ে থেকে একটু জোর গলায় বললো ।
দরজার ওপাশে থেকে তিথির মা সাহেরা বানু রাগী কন্ঠে বললো - সকাল হয়ে গেছে সেই কখন এখনো মেয়ের ওঠার নাম নেই । বলি আর কত ঘুমাবি?
তিথি বিরক্তি নিয়ে জানালার পাশ থেকে এসে দরজা খুলে দিলো।
তিথিকে দেখেই সাহেরা বানু আবার বলতে শুরু করলো - নবাবজাদি আপনার তাহলে ঘুম ভেঙে গেছে? এবার এসে খাওয়া করে আমায় উদ্ধার করুন ।
তিথি বিরক্তি কন্ঠে উত্তর দিলো - তুমি যাও আমি আসছি।
সাহেরা বানু আর কিছু না বলে চলে গেলেন । কিন্তু তিথি আবার সেই জানালার পাশে এসে দাঁড়ালো ।
তিথি গভীর মনোযোগ দিয়ে কিছু একটা খুঁজছে জানালার সেই ফাঁক টা দিয়ে । কিন্তু খুঁজে পাচ্ছে না । রোজ সকালে ঘুম থেকে উঠে তিথি কিছু একটা খুঁজতে থাকে এই জানালাটায় দাঁড়িয়ে । কিন্তু সে খুঁজে পায় না । তিথির রুমে দুটো জানালা । কিন্তু শুধু এই জানালাটাই সব সময় খোলা থাকে। অন্য টা শেষ কবে খোলা হয়েছে সেটা বলা দুস্কর
খাবার ঘর থেকে আবার তিথির মায়ের চিৎকার শোনা যাচ্ছে - সারাদিন চাকরের মতো সেবা করি তবুও কোনো নাম নেই । সেই সাত সকালে বিছানা ছেড়ে উঠেছি এখন পর্যন্ত একটু বসার সুযোগ পাই নি । আর জমিদারের বংশধর দের এখনো সময় হয় নি ঘুম থেকে ওঠার।
তিথি যেন সাহেরা বানুর কথা গুলো শুনেও শুনলো না । কারণ সাহেরা বানুর এটা প্রতিদিনের বক্তব্য । শুনতে শুনতে এক প্রকার অভ্যাসে পরিনত হয়ে গেছে ।
তিথির চোখ দিয়ে দুফোঁটা জল গড়িয়ে পড়লো । এটা শুধু আজ নয়। এটা রোজ সকালের ঘটনা । অপেক্ষার প্রহর গুনে চলার পরও যখন কাঙ্ক্ষিত ব্যাক্তিকে পায় না ।
তিথি ঘর থেকে বের হয়ে গোসলখানায় যায়। হাতমুখ ধুয়ে খাবার জন্য রান্না ঘরে আসে ।
সাহেরা বানু তখন ও বিড়বিড় করেই যাচ্ছে ।
ইবু আর তনু খেয়েছে? দালানের সাথে দাঁড় করিয়ে রাখা মাদুর টা মেঝেতে বিছাতে বিছাতে বললো তিথি ।
তাদের কি আর এখনো সকাল হয়েছে - সাহেরা বানু বিরক্ত কন্ঠে বললো আর তিথিকে প্লেট টা এগিয়ে দিলো। কত বড় হয়ে গেছে একটু সকাল সকাল উঠে যদি হাতের কাজ এগিয়ে দিতো তাহলে না আমি একটু শান্তি পেতাম । কিন্তু না উনাদের সবার সকাল হয় ৯ টায়। এরা যে শ্বশুর বাড়ি গিয়ে কি করবে এক খোদাই ভালো জানে। প্রতিদিন কথা শুনতে হবে যদি শ্বশুর বাড়ি যাওয়ার পরও এমন বদঅভ্যেস থাকে বলে দিলাম ।
তিথি প্লেট টা মেঝেতে রেখে উঠে দাঁড়ালো ।
তুই আবার কোথায় যাচ্ছিস? প্রশ্নকাতর দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তিথির দিকে ।
ইবু আর তনু কে ডেকে নিয়ে আসি।
থাক ওরা পরে খেয়ে নেবে তুই এসে খেয়ে নে। আমি কাজে যাবো - নিজের প্লেটে ভাত বেড়ে নিলো সাহেরা বানু ।
তিথি আর কিছু না বলে আবার চুপচাপ বসে পড়লো।
ইবু তিথির ছোট ভাই আর তনু হচ্ছে তিথির ছোট বোন । ইবু কেবল ক্লাস ২ তে পড়ে আর তনু এইটে। তিথি গতবার কলেজ পাস দিয়েছে ।
যখন ইবু কেবল স্কুলে ভার্তি হয় আর তিথি তখন ইন্টার ১ম বর্ষের ছাত্রী সেই সময় তাদের বাবা পরলোক গমন করে ।
এরপর পরিবারের উপর অন্ধকারের কালো ছায়া নেমে আসে।
অভাবের কারণে পরিবারের সবার জীবন প্রায় থমকে যেতে বসেছিলো। তিথি আর ওর ভাই বোনের পড়ালেখা বন্ধ হয়ে গেছে । ইবু কেবল স্কুলের বারান্দা দেখেছে সেখানেই যেন তার স্কুলে পড়ার স্বপ্ন থমকে গেছে ।
ঠিক সেই সময় নিকট প্রতিবেশী একজন দূরের একটা স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীর একটা চাকরির কথা বলে । সাহেরা বানু এইট পাস ছিলো তাই চাকরি টা পেয়ে যায় । আর তিথিও অনেক কষ্ট করে দুইটা টিউশনি জোগাড় করে নিজের পড়ালেখা টা চালিয়ে যায়। তিথি পাশের একটা ডিগ্রি কলেজে ভর্তি হয়।
সাহেরা বানু আগে খুবই মজাদার মানুষ ছিলো কিন্তু কাজের চাপ এবং পরিস্থিতির কারনে আজ তার চারিত্রিক পরিবর্তন এসেছে ।
প্রতিদিন সকাল টা তাদের এভাবেই কেটে যায়।
এরপর ৮ঃ৩০ মিনিটে সাহেরা বানু স্কুলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয় ।
তিথি কলেজে আসলো।
তিথি নিচে মাটির দিকে তাকিয়ে হাঁটছে কিন্তু সে একবার আড় চোখে রাস্তার পাশে পড়ে থাকা গাছের আংশটার দিকে তাকালো, সেটাও খুবই সর্তকতার সাথে যাতে কেউ বুঝতে না পারে।
রবি প্রতিদিন এই সময় ঐ গাছের আংশটার উপর বসে থাকে। সৃষ্টিকর্তা মেয়েদের একটা অদ্ভুত ক্ষমতা দিয়েছে । দূর থেকে কেউ যদি তাকে দেখে বা তাকে কল্পনা করে তাহলে তারা বুঝতে পারে। তিথিও এর বিপরীত নয় । তিথিও বুঝতে পারে ছেলেটা ওকে দেখার জন্য বসে আছে । প্রথম প্রথম যদিও তিথি তেমন কিছু একটা ভাবে নি কিন্তু এখন তিথিও একবার আড় চোখে তাকায়। কিন্তু তিথি এখনো ভালো করে মুখটা দেখতে পারে নি।
তিথি যে রোজ আড় চোখে রবিকে দেখে সেটা রবির অজানা ছিলো না । যদিও বা তিথি খুব সাবধানে দেখতো। ।
এরপর যখন তিথি একটু এগিয়ে আসে তখন রবিও ওর সাইকেল টা নিয়ে তিথির পিছনে পিছনে হেঁটে ওর কলেজ গেইট পর্যন্ত আসে। ।
সম্পূর্ণ রাস্তা তিথি শুধু একটাই ভয় পায় এই বুঝি লোকটা ওর কাছে এসে কথা বললো। এই বুঝি আশেপাশের লোকেরা তার দিকে তাকিয়ে দেখতে লাগলো।
নিম্নবৃত্ত পরিবারের মেয়েরা অপরাধ না করলেও দোষী হয়। তাই তিথি লোকচক্ষু কে খুবই ভয় পায় ।
▒▓▓▒░

𝓣𝓸 𝓫𝓮 𝓬𝓸𝓷𝓽𝓲𝓷𝓾𝓮

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ