Recents in Beach

বখাটে 1⃣ম পর্ব Sûmøñ Ãl-Fãrâbî

বখাটে 
1⃣ম পর্ব
Sûmøñ Ãl-Fãrâbî 

পুলিশঃ আপনি সমাজের একজন সম্মানিত ব্যক্তি কিন্তু আপনার ছেলে একটা মেয়েকে ধর্ষণ করার চেষ্টা করছে। আর বাদি পক্ষ বলছে যদি ওকে গ্রেফতার না করি তাহলে আন্দোলন করবে। তাই আমরা ওকে ধরে নিয়ে এসেছি। 
( পুলিশ আমার আব্বুকে এই কথাটা বললো)

দুপুর থেকে কারাগারে বন্ধি হয়ে আছি। কোন আপরাধের কারণে সেটা জানি না । কারণ প্রতিদিন আমি অনেক অপরাধই করি এরমাঝে কোনটার জন্য যে আজ থানায় নিয়ে আসলো বুঝতে পারলাম না । 
যখন আব্বু থানায় আমায় ছাড়িয়ে নিতে আসলো তখনই কারণ টা জানলাম । 
কারণ টা শুনে একটু নয় অনেক টাই অবাক হলাম । কারণ আমি একটা মেয়েকে ধর্ষণ করার চেষ্টা করছি এটা আমি নিজেই জানি না ।

আব্বুঃ এবারের মতো ছেড়ে দিন। পরবর্তী সময় যাতে আর এমন না করে সেটা আমি দেখবো। 
( আব্বু পুলিশ কে বললো) 
পুলিশঃ এইবার কিন্তু শেষ বারের মতো ওয়ার্নিং দিচ্ছি । কারণ আপনার ছেলের নামে অনেক গুলো রিপোর্ট জমা আছে । শুধু মাত্র আপনার কথা চিন্তা করে আমরা বার বার ওকে ছেড়ে দেই।

আব্বুঃ হুম । এরপর থেকে আর এমন হবে না । 
পুলিশঃ বাইরে ওর বাইকটা আছে হাবিলদারের থেকে চাবি নিয়ে ওটা নিয়ে যাবেন ।

একজনকে বললো আমায় ছেড়ে দিতে । 
আব্বু সামনে সামনে হাঁটছে আর আমি পিছনে পিছনে । 
হঠাৎ আব্বু দাঁড়ালো ।

আব্বুঃ আজ তোর জন্য আমায় কতটা বাজে কথা শুনতে হলো দেখলি। তুই কি বুঝবি তোর তো কোনো মান সম্মান নেই । আর আমার টাও মাটির সাথে মিশিয়ে দিচ্ছিস।

আব্বু কথা বলতে আছে । 
আমি কোনো উত্তর না দিয়ে সোজা হাবিলদারের থেকে চাবিটা নিয়ে বাইক নিয়ে চলে থানা থেকে বের হলাম । 
আব্বুর সাথে আমার সম্পর্ক টা একটু অন্য রকম । 
খুব বেশি প্রয়োজন হলে কথা বলি নয়তো না। আর আমি কখনো ওনার পরিচয়ে চলতে চাই না । কিন্তু উনি একজন বিখ্যাত শিল্পপতি তাই ওনাকে সবাই চেনে। যদিও বা উনি সবার সামনে আমায় পরিচয় করিয়ে দিতে একটু লজ্জায় পায়। তাই আমি ওনাদের ধারের কাছেও যাই না । ওরা ওদের মতো আমি আমার মতো । 
থানা থেকে বের হয়েই দেখি রকি রাজ দাঁড়িয়ে আছে । 
ওহ হ্যাঁ পরিচয় করিয়ে দেই রকি আর রাজ আমার চতুর্থ আপন জন। আমার অন্ধকার জগতের ডান হাত আর বাম হাত।

রকিঃ ভাই আপনি ঠিক আছেন তো ভাই ? 
রাজঃ ভাই আপনি শুধু বলেন যে পুলিশ আপনাকে ধরে নিয়ে আসছে তাকে পুতে দিয়ে আসবো। 
আমিঃ না রে আমি ঠিক আছি। তোরা শুধু খুঁজে বের কর রিপোর্ট টা কে করছে ।

ওদের কে এই কাজ টা দিয়ে আমি চলে আসলাম মামার দোকানে । 
এই একটা জায়গা যেখানে আমার একটু শান্তি লাগে ।

আমিঃ মামা রাত ১২ টা বাজে এখনো দোকান বন্ধ করো নাই? 
মামাঃ গত তিন বছর ধরে তোর মুখ না দেখে আমি কখনো দোকান বন্ধ করি নি। তো আজ কেমনে ভাবলি দোকান বন্ধ করবো?

মামা আমায় নিজের সন্তানের মতোই ভালোবাসে। ইনি হচ্ছেন তৃতীয় আপন ব্যাক্তি যে গত তিন বছরে আমায় একবার ও ভুল বোঝে নি। 
মামার দোকানে থেকে এক প্যাকেট সিগারেট নিয়ে একটা ওখানেই ধরালাম । 
এরপর মামার দোকান বন্ধ করে মামাকে বাসায় নামিয়ে দিয়ে বাসায় আসলাম । 
এসেই দরজায় ধামাধাম কয়েক টা লাথি দিলাম । 
আমার আবার অন্য সব ভালো ছেলেদের মতো কলিং বেল বাজানোর অভ্যাস নেই । আগে ছিলো এখন নেই। 
দরজা খুলে দিলো আমার কলিজার টুকরা বোন রাফসি। রাফসি হচ্ছে আমার দ্বিতীয় আপনজন ।

রাফসিঃ ভাইয়া তুই ঠিক আছিস তো? তোকে মারে নি তো? ( চোখ দিয়ে পানি পড়ছে) 
আমিঃ পাগলী বোন আমার পুলিশের সাহস আছে তোর ভাইয়ের গায়ে হাত দিবে।

বাসায় ঢুকতেই শুনি আব্বু আম্মুর সাথে রাগারাগি করছে ।

আব্বুঃ এতো দিন তো শুধু মাস্তানী করছে । এখন আবার রেফ ও করার অভ্যাস করছে? 
আম্মুঃ কোথাও একটা ভুল হচ্ছে ।

আব্বুঃ কোনো ভুল হচ্ছে না । আমার মান সম্মান সব ধুলোয় মিশে দিলো। ওকে বলে দিবা ওর মতো কোনো বখাটে ছেলের জায়গায় এই বাসায় নেই ।

আমিঃ শুরু হয়ে গেছে? ( রাফসি কে বললাম) 
রাফসিঃ হুম । তুই ফ্রেশ হয়ে আয় আমি খেতে দিচ্ছি । 
আমিঃ খাবো না রে। যা ঘুমা। আর এই নে তোর চকলেট । 
আমি সারাদিন যাই করি না কেন আসার সময় বোনটার জন্য চকলেট নিতে ভুলি না। ইন্টারে পড়ে কিন্তু স্বভাব ছোটদের মতো । 
রাফসি কে পাঠিয়ে দিয়ে আমি আমার রুমে চলে আসলাম ।

রুমে এসে শুয়ে পড়লাম । 
একটু পরে আমার রুমে কেউ একজন এসে লাইট জ্বালিয়ে দিলো। 
ঠোঁটের কোনে একটু হাসি নিয়ে চোখ খুললাম 
কারণ আমি জানি এখন কে আসছে । 
প্লেটে খাবার হাতে আম্মু । 
এটা আম্মুর রোজকার রুটিন ।

আম্মুঃ এই হা কর খেয়ে নে। 
আমিঃ হুম । 
আম্মুঃ আমি জানি তুই এতটা খারাপ না যে কাউকে ধর্ষণ করবি। কি হয়েছিলো রে? 
আমিঃ আমি নিজেও ঠিক করে জানি না আম্মু । তবে কাল পরশুর মধ্যে তোমায় জানাবো।

আমি আমার সব কাজ রাতে এসে আম্মুকে বলি। 
আর ইনিই আমার সব থেকে আপনজন । 
রাতে আম্মুর হাতে খেয়ে ছাঁদে চলে আসলাম । 
এরপর একটার পর একটা সিগারেট শেষ করলাম। 
এরপর রুমে এসে ঘুমিয়ে পরলাম ।

আমার রাত শুরু হয় ভোর চারটা আর সকাল হয় দুপুর দুইটা। 
এই দুই সময়ে আমার সেই ভদ্রলোক সমাজসেবক বাপটার সাথে দেখা হয় না । 
যদি বা কোনো দিন দেখা হয়ে যায় শুরু করে দেয় লেকচার দেয়া। 
এখন আমার পরিচয় দেই। 
আমি হচ্ছি সুমন । 
এলাকার সবাই সুমন ভাই , বখাটে, মাস্তান এসব নামে জানে। 
আমি সাধারণত এলাকার ছেলেদের মারামারি বেশি করি। কারণ অন্যের চোখে যেটা ভালো মনে হয় আর সেটা যদি আমার চোখে অন্যায় মনে হয় তাহলে সেখানে আমি তান্ডব চালাবোই। 
আমি অন্যের পরোয়া করি না। নিজের মনটা যেটা বলে শুধু সেটাই শুনি। 
তবে আমি কখনো কোনো মেয়ের সাথে এমন করি নি । যেটার জন্য আমায় জেলে যেতে হবে । কিন্তু সেটাই হলো। গতকাল কারণ টা শোনার পর মাথা কিছু টা গরম হলেও কন্ট্রোল করেছিলাম ।

ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে বাইরে এসে টেবিলের উপর থেকে একটা ব্রেড নিলাম একটু খেলাম এরপর একটু পানি খেলাম। এরপর একটা কমলা হাতে নিয়ে বের হতে যাবো সেই সময় আম্মু পিছনে থেকে ডাকলো।

আমিঃ কিছু বলবা আম্মু ? 
আম্মুঃ তোর আব্বু ঠিক করছে পাশের বাসার মেয়ের সাথে তোর বিয়ে দিবে? পাশের বাসার তানজু কে তোর কেমন লাগে?

আমিঃ তানজু সেটা আবার কে? আমি চিনি না । আর আম্মু তুমি ভালো করেই জানো এসব কিছু বেকার । আমি কাউকে বিয়ে করবো না। আর ঐ ভদ্রলোকের নাম ভাঙিয়ে তো কোনো দিন না। সো এসব চিন্তা বাদ দাও ।

আমি এসব বলে চলে আসলাম । 
আম্মু পিছনে বকা দিচ্ছে কিন্তু আমার আবার দুই টা কান ডিরেক্ট করা যদি একটা দিয়ে ঢোকে তো অন্য টা দিয়ে বের হয়ে যায় ।

মামার দোকানে বসে আছি । 
আমিঃ কে মামলা করছে কিছু খবর পেলি 
রকিঃ না ভাই । তবে পেয়ে যাবো। 
আমিঃ খুঁজে বের কর। তারপর ঐ মেয়েকে শুধু ধর্ষন নয় যত নোংরা জিনিস আছে সব শিখিয়ে দিবো।

পাশ থেকে একটা মেয়ে বার বার ডাকছে ।

মেয়েটাঃ এই যে 
আমি তাকাইনি। আবার ডাকলো

মেয়েটাঃ এই যেএএএ। 
আমিঃ এই রাজ তোকে ডাকছে শুনছিস না

মেয়েটা এবার আমার সামনে এসে দাঁড়ালো ।

মেয়েটাঃ আমি ওকে নয় তোকে ডাকছি। 
( আমার হাত ধরে টেনে তুললো)

আমার সাথে এমন ব্যবহার করা দেখে রাজ আর রকি একটু রেগে গেলো। 





To be continue

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ